SAD DEMISE OF OURTBHAMLU DA.
না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমাদের বর্ষিয়ান সেবাইত সৌরীন্দ্র
মোহন চট্টোপাধ্যায় - আমাদের সবার প্রিয় ভমলু’দা; সোমবার বিকেল
৩টের সময় । রেখে গেলেন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং নাতি - নাতনীদের । বেশ কয়েকদিন ধরেই ভুগছিলেন
তিনি, তবে এত তাড়াতাড়ি যে চলে যাবেন তা আমরা ভাবতে পারিনি। সবই ভবিতব্য, মানুষের করার
কিছুই নেই, মেনে নিতেই হবে । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বৎসর ।
ডিএসপি’র RAW MATERIALS DEPARTMENT ‘এ EXEC
|
12:08 PM (19 minutes ago) |
|
||
|
না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমাদের বর্ষিয়ান সেবাইত সৌরীন্দ্র
মোহন চট্টোপাধ্যায় - আমাদের সবার প্রিয় ভমলু’দা; সোমবার বিকেল
৩টের সময় । রেখে গেলেন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং নাতি - নাতনীদের । বেশ কয়েকদিন ধরেই ভুগছিলেন
তিনি, তবে এত তাড়াতাড়ি যে চলে যাবেন তা আমরা ভাবতে পারিনি। সবই ভবিতব্য, মানুষের করার
কিছুই নেই, মেনে নিতেই হবে । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বৎসর ।
ডিএসপি’র RAW MATERIALS DEPARTMENT ‘এ EXECUTIVE পদে নিযুক্ত
ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে অবসর গ্রহন করেন ।
বড় ভাল মানুষ ছিলেন তিনি । মিষ্টভাসি, ধীর, স্থির, শান্ত, নম্র এবং
বিচক্ষণ ব্যাক্তি ছিলেন । অসালীন কথা বার্তা তো দুরের কথা তাঁকে কখনো কারো প্রতি
রূঢ় ব্যবহার করতে দেখা যায়নি বা শোনা যায়নি ।
আমাদের দেবত্তরের প্রতি তাঁর দায়িত্ব এবং নিষ্ঠা ছিল সত্যিই প্রসংশনীয় । এক
কথায় একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি বলা যেতে পারে । বহূ উন্নয়নমূলক কাজ আমাদের
দুর্গামন্দিরের এবং বিষ্ণু মন্দিরের তাঁর হাত দিয়ে সুসম্পন্ন হয়েছে । আমাদের
জ্যাঠামশাই স্বর্গীয় নীহার রন্জন চট্টোপাধ্যায় - ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন এক প্রখর
ব্যক্তিত্ব্যের অধিকারী মানুষ , যিনিই আমাদের এই বর্তমান ট্রাস্টির প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়,
যাঁর হাত দিয়ে, যাঁর চিন্তা ভাবনায় বহূ উন্নতি সাধন হয়েছে আমাদের দেবত্তরের
তথা মন্দিরগুলির তাঁরই অনুগামী ছিলেন আমাদের এই ভমলু’দা । যখন আমাদের এই দেবত্তরের
আর্থিক অবস্থা খুবই সঙ্গিন ছিল তখনো এই দুজন মানুষ আমাদের সেবাইতগণ ও আমাদের
পরিবারের আত্মীয় স্বজন ও মেয়ে-জামাইদের নিকট হতেও তাদের দান অনুদানের উপর ভিত্তি
করে তাঁরা অনেক কাজ এবং উন্নয়ন করেছেন । এই ট্রাস্টি গঠন, তার নামকরন ও
বিভিন্ন শর্তাবলীর আরোপ তাঁদেরই সৃস্টি যার প্রতিফলন আমরা প্রতিনিয়তই বর্তমানে
উপলব্ধি করছি ।
আমি বা আমরা যতদুর জানি এই দেবত্তরের হিসাব নিকাশ ও তার রক্ষনাবেক্ষণ ইত্যাদির
ক্ষেত্রে ভমলুদা’র সততা, নিষ্ঠা এবং পরিচ্ছন্নতা ছিল সত্যিই অনস্বীকার্য । হাতের
লেখাটিও ছিল তাঁর ঝকঝকে । সত্যিই অনেক কিছু শেখার ছিল তাঁর কাছ থেকে । ঠান্ডা
মাথায় কি ভাবে নি:শব্দে কাজ করে যেতে হয় তা সত্যিই তিনি আমাদের দেখিয়ে দিয়ে গেলেন
।
যদিও ইদানীং তিনি দেবত্তরের কাজ কর্মের থেকে কিছুটা দুরে সরে ছিলেন, একান্তই
শারিরীক কারণে, তবুও নিয়মিত ভাবেই খোঁজখবর রাখতেন প্রতিটি বিষয়েই । মাঝে
মাঝে ফোন করেও খবর নিতেন ।
পরিশেষে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আত্মার এবং তাঁর পরিবারের সকলের
শান্তি কামনা করে ইতি টানলাম । মানুষেরতো আর করার কিছু নেই এ এক অমোঘ সত্য । চলে
যেতেই হবে একদিন এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে । সবই মেনে নিতে হয় - “তরঙ্গ মিলায়ে যায়,
তরঙ্গ ওঠে, কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে” ।
ভমলু’দার এই ছবিটি এ বছর দুর্গাপুজোয় অষ্টমীর সন্ধি পুজোর প্রসাদ নিয়ে আসার
সময় তোলা । আমি বলেছিলাম “দাদা আপনার একটা ছবি তুলব” তিনি তখন সহাস্যে
দাঁড়িয়েছিলেন ।স্মৃতি সততই সুখের ।
ওঁ শান্তি ।।