Saturday, 29 March 2025

 SAD DEMISE OF OURTBHAMLU DA.



না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমাদের বর্ষিয়ান সেবাইত সৌরীন্দ্র মোহন চট্টোপাধ্যায় - আমাদের সবার প্রিয় ভমলু’দা; সোমবার বিকেল ৩টের সময় । রেখে গেলেন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং নাতি - নাতনীদের । বেশ কয়েকদিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি, তবে এত তাড়াতাড়ি যে চলে যাবেন তা আমরা ভাবতে পারিনি। সবই ভবিতব্য, মানুষের করার কিছুই নেই, মেনে নিতেই হবে । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বৎসর । ডিএসপি’র RAW MATERIALS DEPARTMENT ‘EXEC

Kanchan Kumar Chatterjee <chatterjee.kanchan@gmail.com>

12:08 PM (19 minutes ago)

না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমাদের বর্ষিয়ান সেবাইত সৌরীন্দ্র মোহন চট্টোপাধ্যায় - আমাদের সবার প্রিয় ভমলু’দা; সোমবার বিকেল ৩টের সময় । রেখে গেলেন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং নাতি - নাতনীদের । বেশ কয়েকদিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি, তবে এত তাড়াতাড়ি যে চলে যাবেন তা আমরা ভাবতে পারিনি। সবই ভবিতব্য, মানুষের করার কিছুই নেই, মেনে নিতেই হবে । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বৎসর । ডিএসপি’র RAW MATERIALS DEPARTMENT ‘EXECUTIVE পদে নিযুক্ত ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে অবসর গ্রহন করেন ।
বড় ভাল মানুষ ছিলেন তিনি । মিষ্টভাসি, ধীর, স্থির, শান্ত, নম্র এবং বিচক্ষণ ব্যাক্তি ছিলেন । অসালীন কথা বার্তা তো দুরের কথা তাঁকে কখনো কারো প্রতি রূঢ় ব্যবহার করতে দেখা যায়নি বা শোনা যায়নি ।
আমাদের দেবত্তরের প্রতি তাঁর দায়িত্ব এবং নিষ্ঠা ছিল সত্যিই প্রসংশনীয় । এক কথায় একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি বলা যেতে পারে । বহূ উন্নয়নমূলক কাজ আমাদের দুর্গামন্দিরের এবং বিষ্ণু মন্দিরের তাঁর হাত দিয়ে সুসম্পন্ন হয়েছে । আমাদের জ্যাঠামশাই স্বর্গীয় নীহার রন্জন চট্টোপাধ্যায় - ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন এক প্রখর ব্যক্তিত্ব্যের অধিকারী মানুষ , যিনিই আমাদের এই বর্তমান ট্রাস্টির প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়, যাঁর হাত দিয়ে, যাঁর চিন্তা ভাবনায় বহূ উন্নতি সাধন হয়েছে আমাদের দেবত্তরের তথা মন্দিরগুলির তাঁরই অনুগামী ছিলেন আমাদের এই ভমলু’দা । যখন আমাদের এই দেবত্তরের আর্থিক অবস্থা খুবই সঙ্গিন ছিল তখনো এই দুজন মানুষ আমাদের সেবাইতগণ ও আমাদের পরিবারের আত্মীয় স্বজন ও মেয়ে-জামাইদের নিকট হতেও তাদের দান অনুদানের উপর ভিত্তি করে তাঁরা অনেক কাজ এবং উন্নয়ন করেছেন । এই ট্রাস্টি গঠন, তার নামকরন ও বিভিন্ন শর্তাবলীর আরোপ তাঁদেরই সৃস্টি যার প্রতিফলন আমরা প্রতিনিয়তই বর্তমানে উপলব্ধি করছি ।
আমি বা আমরা যতদুর জানি এই দেবত্তরের হিসাব নিকাশ ও তার রক্ষনাবেক্ষণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ভমলুদা’র সততা, নিষ্ঠা এবং পরিচ্ছন্নতা ছিল সত্যিই অনস্বীকার্য । হাতের লেখাটিও ছিল তাঁর ঝকঝকে । সত্যিই অনেক কিছু শেখার ছিল তাঁর কাছ থেকে । ঠান্ডা মাথায় কি ভাবে নি:শব্দে কাজ করে যেতে হয় তা সত্যিই তিনি আমাদের দেখিয়ে দিয়ে গেলেন ।
যদিও ইদানীং তিনি দেবত্তরের কাজ কর্মের থেকে কিছুটা দুরে সরে ছিলেন, একান্তই শারিরীক কারণে, তবুও নিয়মিত ভাবেই খোঁজখবর রাখতেন প্রতিটি বিষয়েই । মাঝে মাঝে ফোন করেও খবর নিতেন ।
পরিশেষে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আত্মার এবং তাঁর পরিবারের সকলের শান্তি কামনা করে ইতি টানলাম । মানুষেরতো আর করার কিছু নেই এ এক অমোঘ সত্য । চলে যেতেই হবে একদিন এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে । সবই মেনে নিতে হয় - “তরঙ্গ মিলায়ে যায়, তরঙ্গ ওঠে, কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে” ।
ভমলু’দার এই ছবিটি এ বছর দুর্গাপুজোয় অষ্টমীর সন্ধি পুজোর প্রসাদ নিয়ে আসার সময় তোলা । আমি বলেছিলাম “দাদা আপনার একটা ছবি তুলব” তিনি তখন সহাস্যে দাঁড়িয়েছিলেন ।স্মৃতি সততই সুখের ।
ওঁ শান্তি ।

 

 

                                                          VISVA BHARATI

                                                                                                                                                         Founder President                                                   SANTINIKETAN                             

  RABINDRANATH TAGORE                                                    BENGAL, INDIA

                                                                                                     ৫/১/৩৫        1935

সবিনয় নিবেদন,

            রবীন্দ্রনাথ আপনার ১০ই  পৌষ তারিখের চিঠি যথাসময়েই পাইয়াছিলেন । প্রবাসী বঙ সাহিত্য  সম্মেলন ইত্যাদী কার্য্যপ্রসঙে তাঁহাকে গত কয়দিন কলিকাতায় থাকিতে হইয়াছিল তাই আপনার চিঠির উত্তর এত দিন দেওয়া সম্ভবপর হয় নাই । উত্তরায়ন অঞ্চলে প্রহরীর তাড়নায় আপনি তাঁহার সহিত দেখা করিতে পারেন নাই তজ্জন্য তিনি নিতান্ত দুঃখিত । মেলার সময় বাহিরের এত লোকের ভিড় হয় যে সেই কয়দিন বাড়ির বাহিরের  ফটকে বাধ্য হইয়াই প্রহরী রাখিতে হয় । তখন তাঁহার কাজের খুব চাপ পড়ে এবং দিন রাত্রি দর্শন  প্রার্থীদের ভিড়ও লাগিয়া থাকে । সাধারনত তাঁহার গৃহে অবারিত দ্বার, কিন্তু পৌষ উৎসবের দিন  কয়টি তাঁহার সহিত সাক্ষাতের প্রশস্ত সময় নহে । আপনি অন্য কোন সময়ে আসিলে অনায়াসেই তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ  করিতে পারেন । ইতি –

 

                                                                                                বিনীত

                                                                                        শ্রী অনিল কুমার চন্দ ।

                                                              শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের সহায়ক

শ্রীযুক্ত অমরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় সমীপেষু ।

 

 

 

 

 

 

 

 

কাঞ্চন

 

 

 

 

 

                                                            ওঁ

 

                                                                                                            শান্তিনিকেতন

 

কল্যানীয়েষু,

তোমার “সম্বর্ধনা” কবিতাটি পড়ে বিশেষ আনন্দলাভ করেছি । আশা করি কোনো উপলক্ষে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে ।

তোমার চিঠি পড়ে বোধ হল যে তুমি এখনো সংবাদ পাওনি যে আশ্রমে আমার জন্মদিনে জয়ন্তী উৎসব হবে না । এখন এখানে জলাভাব এবং অত্যন্ত গ্রীষ্ম । অতিথিদের অভ্যর্থনার উপযুক্ত আয়োজন এখানে এখন অসম্ভব ।

                                                            ইতি

                                            ১৫ই বৈশাখ  ১৩৩৮

 

                         শুভাকাঙ্খী

                 শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।।

 

 

 

 


কাঞ্চন

 

 MY LIFE AFTER RETIREMENT



আজ সকালে গিয়েছিলাম আমাদের গ্রামেই এক তেল মিলে সরষের তেল আনতে । সকাল বেলা - বেশ ফাঁকাই ছিল মিল, তাছাড়া মিল মালিক আমার বেশ পরিচিত। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম সরষে পিষিয়ে

Kanchan Kumar Chatterjee <chatterjee.kanchan@gmail.com>

12:11 PM (22 minutes ago)

to Kanchan

আজ সকালে গিয়েছিলাম আমাদের গ্রামেই এক তেল মিলে সরষের তেল আনতে । সকাল বেলা - বেশ ফাঁকাই ছিল মিল, তাছাড়া মিল মালিক আমার বেশ পরিচিত। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম সরষে পিষিয়ে
কেমন সুন্দর ভাবে তেল বেরিয়ে আসছে ।
মনে মনে কত কি ভাবলাম । অবসর জীবন, গ্রামে থাকি তাই এখনো মিল থেকে এনে খাঁটি সরষের তেল খেতে পাচ্ছি । এখনো নিজস্ব পুকুর থেকে ধরা জ্যান্ত মাছ যাকে বলে jumping fish খেতে পারছি প্রায়শই, অনতি দুরেই এই অঘ্রহায়ন পৌষের সোনালী রোদে দাঁড়িয়ে খেজুর গাছের জিরেন কাঠির রস খেতে পারছি । চোখের সামনে তৈরী হচ্ছে নলেন গুড় বা পাটালি - ইচ্ছে থাকলেই নানান ভাবে সেই অমৃত সমান নলেন গুড় দিয়ে নানান পদের প্রাতরাশ খেতে পারছি । ভালই কাটছে অবসর জীবন এই গ্রামে; মাঝে মাঝে যেন বলতে ইচ্ছে করে এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না ।
যদিও আমাদের গ্রামে সেই অনগ্রসর গ্রাম্য জীবন এখন আর নেই। ইস্পাতনগরীর উপকণ্ঠে অবস্থিত; তাই শহরের সব সুখ সাচ্ছন্দই পাওয়া যায় এই গ্রামীন শান্ত সুশীতল পরিবেশের সাথে সাথে । খুব বড় আমাদের এই গ্রাম । অনতিদুরেই গড়ে উঠেছে নানান নামে নানান বসতি সুসজ্জিত ভাবে । তাই বহূ মানুষের বসবাস এখন এই গ্রামে । হিন্দু মুসলমান প্রায় সমান সমান । পারস্পরিক সম্পর্ক সুমধুর - যেন একই বৃন্তে দুটি কুসুম ।
ভোর হতে না হতেই চলে আসে কর্পোরেশনের জল, সকাল হলেই চলে আসে নির্মল মিশনের মানুষজন তাদের গাড়ি নিয়ে, বাঁশি বাজিয়ে বাজিয়ে দরজায় দরজায় ডাক দেয় । সমস্ত রাস্তা ঘাট একেবারে যেন বাঁধানো - concreted সন্ধ্যে হলেই প্রতিটি রাস্তায় জ্বলে ওঠে LED লাইট, কোথাও বা আবার সোলার লাইটে ঝলমল করছে গোটা এলাকা । মাটির বাড়ি বলতে প্রায় নেই-ই । প্রাসাদোপম সুসজ্জিত অট্টালিকা, বহু বাড়িতেই বাতানুকুল যন্ত্র । এছাড়া আধুনিক সুসভ্য জীবনের সব কিছুই এখন বাড়িতে বাড়িতে শোভা বৃদ্ধি করে । গরুর গাড়ি তো কবেই উঠে গেছে । স্থান দখল করে নিয়েছে অগুনতি ট্রাক্টর। প্রায় সব বাড়িতেই দেখা যায় একাধিক দ্বিচক্র যান । চার চাকা বা ছয় চাকার গাড়িও কিছু কম নেই । অনতি দুরেই বিমান বন্দর । মাথার উপর উড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রুটের বিমান ঘন্টায় ঘন্টায় । ছোট ছোট শিশুদের বিভিন্ন স্কুলে নিয়ে যাবার জন্য আসে নানান গাড়ি । পুঁথি বগলে পাঠশালে যাবার ছেলে মেয়েদের সংখ্যা এখন খুবই কম । সবাই প্রায় টাই বেঁধে গলায় আই কার্ড ঝুলিয়ে স্কুলে যাচ্ছে । যদিও গ্রামে একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল আছে তবুও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়া এক অন্য মাত্রা এনে দেয় আধুনিক জীবন যাপনে ।
আগে যখন চাকরি করতাম তখন গ্রামে থাকার জন্য মাঝে মাঝে আফসোস হত । অনেকেই দেখতাম শহূরে জীবনের সুখসুবিধার জন্য গ্রাম ছেড়ে কোয়াটার্সে চলে যাচ্ছে তখন সত্যিই মনে হত হয়ত ভুল করলাম । এখন কিন্তু আর সেভাবে মনকে পীড়া দেয় না । এখন মনে হয় এখানেই যেন প্রাণের আরাম - মনের আনন্দ - আত্মার শান্তি । এখনো এখানে প্রতি সন্ধ্যায় প্রতি বাড়ি থেকেই শোনা যায় শঙ্খধ্বণি , কান পাতলে এখনো বহূ বাড়ি থেকে ভেসে আসে প্রতি বৃহস্পতি বারে লক্ষীর পাঁচালীর সুর বা পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণ পুজোর মন্ত্র । প্রতি সন্ধ্যায় শোনা যায় বিভিন্ন মন্দির থেকে সন্ধ্যরতির কাঁসার ঘন্টার আওয়াজ । এখনো কার্তিকের নিশি ভোরে খোল করতাল নিয়ে বের হয় হরিনাম সংকীর্তনের দল । বৈশাখের তপ্ত দিনের শেষে সন্ধ্যায় দখিনা বাতাস বওয়ার সাথে সাথে বেরিয়ে পড়ে নানান ভক্ত বৃন্দ হরিনাম সংকীর্তন করতে । এছাড়া নানান পুজো আর্চা মেলা তো লেগেই আছে । তাই জীবন সায়াহ্নে মনে হয় এই গ্রামই যেন আমার স্বর্গপূরী - বিশ্ব শোভা এইখানেতেই গেছে চুরি

 

 

 

 

 

 

এক অলৌকিক ঘটনা
আমরা আমরাই গ্রাম নিবাসী চট্টোপাধ্যায় (বাবু) পরিবারের সকলেই সর্গীয় হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের বংশদ্ভূত । আমাদের পূর্বপুরুষ কখনো ত্রিসন্ধ্যা না করে দিন যাপন করতেন না । আজও আমরা সকলে ধার্মিক না হলেও ধর্মভীরু । এখনো নানান পুজো-আর্চার মধ্য দিয়েই আমাদের সকলের দিন অতিবাহিত হয় । আমাদের লক্ষী-জনার্দনের মন্দিরে নিত্য সেবার ব্যবস্থা আছে এবং প্রতিদিন সেখানে সন্ধ্যারতির সময় আনেকেই জমায়েত হন ।
গত সপ্তাহে এমনি এক সন্ধ্যায় আরতির পর সবাই যখন প্রায় বাড়ি চলে যান, তখন আমাদের পুরোহিত মশাই (বাসু’দা) দেখেন জনৈক এক ব্যক্তি প্রায় মুখ ঢেকে বসে আছে মন্দিরের এক কোণে। কাছাকাছি হতেই পুরোহিত মশাই’কে বলে “আমি আপনার জন্যই আপেক্ষা করছি”। পুরোহিত মশাই বলেন কেন?উত্তরে প্রায় কাঁদ-কাঁদ স্বরে বলে ওঠে “আমাকে ক্ষমা করবেন । আমার বাড়ি বোলপুরে ।আমরা জাতিতে মুসলমান ।অভাবের তাড়নায় আজ থেকে বেশ কয়েক মাস আগে আমার ভাই আপনাদের ঠাকুরের স্নান-জলের তাম্র পাত্র’টি চুরি করে নিয়ে যায় ।প্রথমে আমরা এত খেয়াল করিনি । কিন্তু বেশ কয়েকদিন পর থেকেই আসতে শুরু করে নানান বিপদ আমাদের পরিবারে । আমার ভাই’এর শারীরিক অবস্থার অব্নতি হতে থাকে দিনের পর দিন । আমিও আমার কাজের জায়গায় প্রায় মরতে মরতে বেঁচে যাই ”। এ’রকম ভাবে চলতে চলতে যখন অবস্থা একেবারেই খারাপ হতে থাকে তখন একদিন স্বপ্নে কে যেন নির্দেশ দেন আমার ভাই’কে, “আমার ঘটি (তাম্র পাত্র’টি) যেখান থেকে নিয়ে এসেছিস সেখানে রেখে আয়” । তাই আমি সেই ঘটি নিয়ে এসেছি ঠাকুর মশাই । “আপনি দয়া করে পাত্রটি নিন এবং ঠাকুরের কাছে আমাদের ক্ষমা প্রার্থনা করুন ।”
পরদিন বাসু’দা এবং সুভাষ সকলকেই এ ঘটনার বর্ননা করায় আমরা সকলেই স্তম্ভিত ।ব্যপারটা পুরোটাই বিশ্বাসের । তর্কের কোন স্থান নেই এখানে । আমি শুধু ফেস্-বুকের মাধ্যমে ঘটনাটি জানালাম বিশেষ করে আমার পরিবারের সকলকে এবং সকল বন্ধুদের

 

 

 

0UR DHARA ANUSTHAN

 

মা দূর্গা বিসর্জনের পরদিন সকাল থেকেই যেমন চারিদিক - সারা জগতই শুন্য মনে হয়, খাঁ খাঁ করে সারা পৃথিবী তেমনই আমাদের এই ধারার পরদিন সকলের হৃদয় যেন শুন্য মনে হচ্ছে । বিশেষত বিকেল বেলাটা । মনে হচ্ছে যেন কারও কোন কাজই নেই । দুর্গামন্দির থেকে বিষ্ণুমন্দির প্রাঙ্গনে একই চিত্র শুধু শুন্যতা । সকলের মুখেই এই একই কথা - কিছুই ভাল লাগছে না । ধারা অনুষ্ঠান যে সকলের মন এমনি ভাবে কেড়ে নেবে তা ভাবা

Kanchan Kumar Chatterjee <chatterjee.kanchan@gmail.com>

 

 

মা দূর্গা বিসর্জনের পরদিন সকাল থেকেই যেমন চারিদিক - সারা জগতই শুন্য মনে হয়, খাঁ খাঁ করে সারা পৃথিবী তেমনই আমাদের এই ধারার পরদিন সকলের হৃদয় যেন শুন্য মনে হচ্ছে । বিশেষত বিকেল বেলাটা । মনে হচ্ছে যেন কারও কোন কাজই নেই । দুর্গামন্দির থেকে বিষ্ণুমন্দির প্রাঙ্গনে একই চিত্র শুধু শুন্যতা । সকলের মুখেই এই একই কথা - কিছুই ভাল লাগছে না । ধারা অনুষ্ঠান যে সকলের মন এমনি ভাবে কেড়ে নেবে তা ভাবা যায় নি । সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা, একাত্মতা ও সদিচ্ছাই তার নিদর্শন । আসলে এত দীর্ঘ সময় ধরে কোন অনুষ্ঠানই চলে না আমাদের এই মন্দিরে । দুর্গাপুজো - তাও মাত্র চার দিনেই শেষ । কিন্তু এই ধারাই শুধু চলে টানা ৩২ দিন - চৈত্র সংক্রান্তি থেকে একেবারে বৈশাখ সংক্রান্তি পর্যন্ত । ফল, মিষ্টান্ন প্রসাদই সব নয়, সব থেকে আকর্ষণীয় হচ্ছে মানুষের উপস্থিতি, তাঁদের আগমন ও যোগদান । শিশুদের হৈ হুল্লোড়, তাদের নির্ভেজাল আনন্দ, বয়ষ্ক বয়ষ্কাদের আন্তরিক যোগদান এবং অংশগ্রহণ, সবার সাথে একটু সময় কাটানোই ছিল যেন এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ । সকলেরই কৌতুহল আজ বিশেষ কি আছে, আজ কিসের শরবত ইত্যাদী প্রশ্নই ছিল এই অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তার মাপকাঠি । বাবা লক্ষীজনার্দনের কাছে একান্ত ভাবে কামনা করি আমাদের এই অনুষ্ঠান সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় যেন আরও আকর্ষনীয় ও মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে আগামী দিনে । তাঁর কৃপায় ছাড়া তো কোন কিছুই সম্ভব নয় । আমরা জানি সবার ওপরে মানুষই সত্য এবং তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং যোগদানই যে কোন অনুষ্ঠানকে জীবন্ত করে তুলতে পারে আর আমাদের ধারা ছিল তার একমাত্র প্রাণবন্ত তথা জীবন্ত উদাহরন । আগামী দিনে সমস্ত সেবাইতগণকে আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসার বিনম্র অনুরোধ জানিয়ে শেষ করলাম আমার এই প্রতিবেদন

 

 

শিল্প নগরীর বুকে আমরাই গ্রামে জমিদার বাড়ির শতাব্দী প্রাচীন দোল উৎসব

Kanchan Kumar Chatterjee <chatterjee.kanchan@gmail.com>

12:06 PM (18 minutes ago)

শিল্প নগরীর বুকে আমরাই গ্রামে জমিদার বাড়ির শতাব্দী প্রাচীন দোল উৎসব

ইস্পাত নগরীর উপকন্ঠে অবস্থিত আমরাই গ্রামে জমিদার বাড়িতে দোল উৎসব পালিত হয়ে আসছে প্রায় তিনশ বছর ধরে । এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই পরিবারের মানুষজন সেকালীন রীতিনীতি মেনেই এই উৎসব পালন করে আসছেন ।দোলের আগের দিন পালিত হয় চাঁচর বা ন্যাড়া পোড়ার অনুষ্ঠান । নিকটস্থ আমাদের নূতন পুকুর সংলগ্ন এক জায়গায় তৈরী করা হয় একটি কুঁড়ে ঘর । মন্দির থেকে দোলায় করে নিয়ে যাওয়া হয় লক্ষ্মীজনার্দনের বিগ্রহ । সেখানে পুজা-আর্চা ও হোম যজ্ঞের পর পোড়ান হয় সেই কুঁড়ে ঘর । তদানীন্তন জমিদার স্বর্গীয় হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় এই গ্রামের আরও অন্যান্য পরিবারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই প্রচলন করেছিলেন নানান উৎসবে বিভিন্ন কুলদেবতাদের আমাদে্র মন্দিরে আনার বা এখান থেকে অন্য মন্দিরেও যাবার । আজও এই পরিবারের সদস্যরা দোলের দিন ধুমধাম করে রায় পরিবার থেকে তাদের কুলদেবতা শ্রী শ্রী গোপাল এবং ভট্টার্চায্য পরিবারের কুলদেবতা শ্রী শ্রী দামোদর’এর বিগ্রহ গুলি কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে নিয়ে আসেন এই দুর্গামন্দিরে দোল উৎসব পালনের জন্য । আবির গুলালে স্নাত করে সন্ধ্যেয় আরতি সম্পন্ন হওয়ার পর আবার সেইরুপ শোভযাত্রা সহকারে কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে ভক্তিভরে স্বস্থানে পৌঁছে দিয়ে আসা হয় তাঁদের কুলদেবতাদের । অনুরুপ ভাবে এ পরিবারের কুলদেবতা লক্ষ্মীজনার্দন’কেও রায় পরিবার থেকে সসস্মানে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের রাশ উৎসবে যোগদানের জন্য পূর্ণিমার ভরা চাঁদের রাতে । দোলের দিন হোম যজ্ঞ ইত্যাদী নানান অনুষ্ঠান আজও জাঁকজমক সহকারে পালন করে আসছেন এ পরিবারের সদস্যরা ।হোম যজ্ঞ সমাপনের পর যৎসামান্য ব্রাহ্মণ ভোজনের রীতি আজও চলে আসছে
এ বছর এ পরিবারের শতাব্দী প্রাচীন লক্ষীজনার্দন মন্দির চত্বরটি এবং ভোগ মন্দিরটির সংস্কার করে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে । সামগ্রিকভাবে পরিবেশটির বিশেষ উন্নতি হয়েছে । এ জন্য কর্মকর্তাদের সাধুবাদ জানাই । এ ছাড়াও মন্দিরটির পরিবেশ রক্ষার্থে তথা কুকুর, বিড়াল ও গরু ছাগলের উৎপাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য বেশ কয়েকটি লোহার গেটও বসান হয়েছে
এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে এদিন নানান পুজা আর্চা ছাড়াও সন্ধ্যায় দুর্গামন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় কীর্তনের আসর । বহু স্বনামধন্য শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এই অনুষ্ঠানে । অসংখ্য মানুষের সমাগমে এই আসর এক অন্য মাত্রা পায় দোল পূর্ণিমার দিন চাঁদের হাসির বাঁধ ভাঙ্গা জোৎস্নায় । কীর্তন শেষে শুরু হয় লুচি পোলাও ও মিষ্টান্ন সহযোগে প্রসাদ বিতরনের পালা । সামগ্রিক ভাবে এই দোল উৎসব এই শিল্পনগরীর বুকে এক অন্য মাত্রা পেয়ে আসছে সুপ্রাচীন কাল থেকে